পোস্টগুলি

ছোটগল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

চিঠি

ছবি
🌧️ গল্প: চিঠি ✍️ লেখক: জোনাকি 📜 তিন বছর পর আবার চিঠি। না, এই যুগে কেউ আর চিঠি লেখে না। তবু ডাকপিয়ন সকালবেলা এসে ডাকলো, “জোনাকি বৌদি, আপনার নামে একটা খাম আছে।” মেয়েটি চমকে উঠেছিল। যেন পুরোনো কোনো জ্বালা হঠাৎ উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে। চিঠি খুলতেই চোখে পড়ল পুরোনো হাতের লেখা— "জোনাকি, তুমি হয়তো ভেবেছিলে আমি চলে গেছি। আসলে আমি হারিয়েছিলাম—নিজেকেই..." এই সেই মানুষ— যে রাত্রিবেলা কথা দিত, “তুমি শুধু থাকো, আমি সব ঠিক করে আনবো।” সে মানুষই একদিন পাসের গ্রাম থেকে চুপিচুপি ট্রেনে উঠে আর ফেরেনি। চিঠির একেকটা বাক্য যেন গালে চড়ের মতো লেগে যাচ্ছে— "আমি তোমার মতো কাউকে আর পাইনি, সেইজন্যই বারবার তোমার স্বপ্নে ফিরে আসি…" জোনাকি জানালার ধারে বসে থাকে। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। হাতের চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে। চিঠি ছিঁড়ে ফেলেনি, আবার রেখে দিয়েছে তার পুরোনো ট্রাঙ্কের এক কোণায়— যেখানে একদিন সেই মানুষটার গন্ধ মিশে ছিল। 🖤 লেখকের মন্তব্য: কিছু চিঠি কখনো পাঠানোর জন্য নয়। তারা শুধু মনে করিয়ে দেয়— কিছু গল্প মাঝপথে শেষ হয় না, তারা ক...

আলো আসে না সব জানালায়

ছবি
আলো আসে না সব জানালায় ✍️ লেখক: জোনাকি সামিম আহমেদ, মুর্শিদাবাদের নগর গ্রামের এক মধ্যবয়স্ক মানুষ। ইতিহাসে এম.এ, বিএড, ডিএড—শিক্ষায় যত উঁচুতে উঠেছেন, জীবনে তত নেমেছেন নিচে। ২০০৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে টিউশন শুরু করেন। সেই থেকে আজও পড়াচ্ছেন। বহু ছাত্রছাত্রী আজ প্রতিষ্ঠিত—ডাক্তার, উকিল, আন্তর্জাতিক গবেষক, নার্স, অধ্যাপক, এমনকি নেতা। তবুও সামিম আহমেদের ঘরে অভাব। স্ত্রীর গহনা বিক্রি হয়েছে, বাজারে ধার, স্কুলে বেতন আট হাজার টাকা। ছাত্রদের উপহার নিতে লজ্জা লাগে, তবুও না নিলে তারা কষ্ট পায়। কম শিক্ষিত বন্ধুরা আজ ব্যবসায়ী, গাড়ির মালিক, অথচ সামিম এখনও ভাঙা সাইকেলে চড়ে টিউশনি করতে যান। তবে সরকারি অফিসে গেলেই দৃশ্য বদলে যায়। কেউ বলে, “স্যার, আপনি তো আমার বোনের শিক্ষক!”, কেউ বলে, “আপনার ছাত্র এখন পুলিশ, আপনাকে দেখে গর্ব হয়।” “আমি পুতুল বানাই, জীবন দিয়ে। পুতুলগুলো নাচে, উড়ে যায় বিদেশে। আমি বসে থাকি অন্ধকার জানালার পাশে।” একবার স্ত্রী বলেছিল, “তোমার ছাত্ররা বড় হয়েছে, কেউ তো সাহায্য করে না।” সামিম বলেছিলেন, “তারা মানুষ হয়েছে, এটাই আমার বেতন।” এক ছাত্র...

শখ না সুখ

ছবি
গল্প মামুন হক সাহেবের বাড়িতে সকালের আলো যেন একটু অন্যরকম। বড় ছেলে লোহিতের দিন শুরু হয় ভোরের আজানের সঙ্গে। বাবার ব্যবসার হিসাব-নিকাশ, দোকানের তদারকি, আর নতুন চুক্তির দৌড়ঝাঁপ—এসবই তার জীবন। তার স্ত্রী রীনা, সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, সকাল থেকে ব্যস্ত। তাদের মেয়ে সিনথিয়া বাড়িতেই পড়াশোনা করে, টিউশন মাস্টারের কাছে। বাবা-মায়ের সময়ের অভাবে সিনথিয়ার জগৎটা বই আর টিউশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।অন্যদিকে, মোহিত, হক সাহেবের ছোট ছেলে, সরকারি স্কুলের শিক্ষক। তার জীবনটা অনেকটা নিয়মের। তার স্ত্রী নীলা আর মেয়ে অ্যালিশিয়া জীবনকে উৎসবের মতো উদযাপন করে। অ্যালিশিয়া স্কুলে পড়ে, সাঁতার শেখে, নাচে, গান গায়, এমনকি ক্যারাটেও তার হাত পাকা। হক সাহেবের কাছে নীলার প্রতিটি কাজই যেন সোনায় মোড়া। কিন্তু লোহিত আর রীনাকে তিনি যেন সবসময় খুঁত ধরেন। “বড় বউমা শুধু চাকরি আর ঘর, আর কিছু জানে না,” বলে তিনি প্রায়ই কথা শোনান।এক সন্ধ্যায়, লোহিত দোকান থেকে ফিরে বারান্দায় বসে। হাতে এক কাপ চা, কিন্তু মনটা ভার। বাবার ব্যবসা, সম্পত্তি, টাকা-পয়সা—সবই তো হল, কিন্তু তার নিজের জীবন? সিনথিয়ার ভবিষ্যৎ? রীনা আর তার...

ধোঁয়ার ভিতর জীবন

"ধোঁয়ার ভিতর জীবন (২)" ... শান্তি এখন আর আগের মতো নরম কথা বলে না। সে কেবল ক্লান্ত নয়, বিরক্তও—দিনরাত খেটে যখন সংসার চলে, তখন তার মনে হয়, অমিত যেন বোঝাই একটা বোঝা। “সব মেয়ে কি না খেটে সংসার চালায়?” — মাঝে মাঝে খোঁটা দেয় শান্তি, চায়ের কাপটা একটু বেশি জোরে নামিয়ে। “তুমি তো মাস্টার মানুষ ছিলে! আজকে দশ টাকাও রোজগার করতে পারো না!” অমিত চুপ করে থাকে। কিছু বললে আরও কিছু কথা ফিরে আসে। সে জানে, শান্তির কথাগুলো রাগ নয়, অভিমান। তবে সেই অভিমানে গলতি নেই—তবু সেটা কাটে না। তন্ময় এবার স্কুলে যাচ্ছে। ইউনিফর্মের রঙ মলিন, জুতো সেলাই করা। বাবা যখন স্কুলের কথা বলে, ছেলের চোখে প্রশ্ন—“তুমি তো আর মাস্টার না!” এমন সময়েও অমিত চেষ্টা করে—বাজারে গিয়ে খোঁজ নেয়, কেউ পড়াতে চাইবে কি না। কেউ চায় না—একজন বেকার, যাকে লোকের মুখে শোনা যায় “স্ত্রী চালায়।” কিন্তু রাতে যখন তন্ময় মায়ের কোলে ঘুমায়, অমিত এক কোণে বসে ভাবে—আমি কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলাম?