শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে এককথায় ১০০ টি প্রশ্নোত্তর

 বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছাত্রছাত্রী, কুইজ প্রতিযোগিতা ও ব্লগ পোস্টের জন্য নিচে দেওয়া হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে এককথায় ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে ১০০টি এককথার প্রশ্নোত্তর

১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম সাল কত? — ১৮৬১

২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তারিখ কী? — ৭ই মে

৩। রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান কোথায়? — জোড়াসাঁকো

৪। তাঁর পিতার নাম কী? — দেবেন্দ্রনাথ

৫। মাতার নাম কী? — সারদাদেবী

৬। রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী’র নাম কী? — মৃণালিনী

৭। রবীন্দ্রনাথ কোন পুরস্কার পেয়েছিলেন? — নোবেল

৮। কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পান? — গীতাঞ্জলি

৯। নোবেল পুরস্কার পান কত সালে? — ১৯১৩

১০। তিনি কোন ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন? — বাংলা

১১। রবীন্দ্রনাথের ছদ্মনাম কী? — ভানুসিংহ

১২। তিনি কোন ক্ষেত্রে বিখ্যাত? — সাহিত্য

১৩। রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীত কোনটি? — জনগণমন

১৪। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত কোনটি? — আমারসোনারবাংলা

১৫। শান্তিনিকেতন কোথায় অবস্থিত? — বোলপুর

১৬। বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন কে? — রবীন্দ্রনাথ

১৭। রবীন্দ্রনাথের উপাধি কী? — বিশ্বকবি

১৮। রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কী? — কবিকাহিনী

১৯। প্রথম বিদেশযাত্রা কবে? — ১৮৭৮

২০। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু সাল কত? — ১৯৪১

২১। মৃত্যুর তারিখ কী? — ৭ইআগস্ট

২২। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত উপন্যাস একটি বলো। — গোরা

২৩। আরেকটি উপন্যাস? — ঘরেবাইরে

২৪। তাঁর বিখ্যাত গল্প? — কাবুলিওয়ালা

২৫। বিখ্যাত নাটক? — ডাকঘর

২৬। শিশুদের জন্য লেখা গ্রন্থ? — সহজপাঠ

২৭। রবীন্দ্রনাথ কোন আন্দোলনের বিরোধিতা করেন? — বঙ্গভঙ্গ

২৮। তিনি কোন সম্মান ত্যাগ করেন? — নাইটহুড

২৯। নাইটহুড ত্যাগ করেন কেন? — জালিয়ানওয়ালা

৩০। তিনি কোন ধারার কবি? — মানবতাবাদী

৩১। রবীন্দ্রসংগীতের সংখ্যা প্রায় কত? — ২২৩০

৩২। তাঁর আত্মজীবনীর নাম কী? — জীবনস্মৃতি

৩৩। রবীন্দ্রনাথের পত্রসাহিত্যের গ্রন্থ? — ছিন্নপত্র

৩৪। “চিত্তযেথাভয়শূন্য” কোন গ্রন্থে আছে? — গীতাঞ্জলি

৩৫। “একলা চলো রে” কার লেখা? — রবীন্দ্রনাথ

৩৬। রবীন্দ্রনাথ কোন শিক্ষাপদ্ধতি চালু করেন? — মুক্তশিক্ষা

৩৭। তাঁর বিখ্যাত নৃত্যনাট্য? — চণ্ডালিকা

৩৮। আরেকটি নৃত্যনাট্য? — শ্যামা

৩৯। রবীন্দ্রনাথের দাদার নাম? — দ্বিজেন্দ্রনাথ

৪০। তিনি কোন পরিবারে জন্মেছিলেন? — ঠাকুরপরিবার

৪১। রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রথম গান? — অভিলাষ

৪২। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ? — সোনারতরী

৪৩। “গীতবিতান” কী? — গানেরসংকলন

৪৪। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যধারা কী? — আধুনিক

৪৫। তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন? — বিশ্বভারতী

৪৬। রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী কী নামে পরিচিত? — রবীন্দ্রজয়ন্তী

৪৭। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী কী নামে পরিচিত? — শ্রাবণস্মরণ

৪৮। “ডাকঘর” কী ধরনের রচনা? — নাটক

৪৯। “পোস্টমাস্টার” কী? — গল্প

৫০। “শেষেরকবিতা” কী? — উপন্যাস

৫১। “চোখেরবালি” কী? — উপন্যাস

৫২। “নষ্টনীড়” কী? — গল্প

৫৩। “সভ্যতার সংকট” কী? — প্রবন্ধ

৫৪। রবীন্দ্রনাথ কোন ধর্মভাবনায় বিশ্বাসী ছিলেন? — ব্রাহ্ম

৫৫। তিনি কোন বিদ্যালয়ে পড়েননি? — নিয়মিত

৫৬। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ভ্রমণস্থল? — শিলাইদহ

৫৭। তাঁর ব্যবহৃত নৌকার নাম? — পদ্মা

৫৮। রবীন্দ্রনাথ কোন বাদ্যযন্ত্র পছন্দ করতেন? — এসরাজ

৫৯। তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় কত? — ২০০০

৬০। রবীন্দ্রনাথ কোন শিল্পকলায়ও দক্ষ ছিলেন? — চিত্রকলা

৬১। “রক্তকরবী” কী? — নাটক

৬২। “বাল্মীকিপ্রতিভা” কী? — গীতিনাট্য

৬৩। “ভানুসিংহের পদাবলী” কোন ভাষার আদলে? — ব্রজবুলি

৬৪। রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ঋতু কোনটি? — বর্ষা

৬৫। “সাহিত্য” পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? — রবীন্দ্রনাথ

৬৬। রবীন্দ্রনাথ কোন দেশে নোবেল পান? — সুইডেন

৬৭। তিনি কত বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন? — আট

৬৮। রবীন্দ্রনাথের বড় ভাইয়ের নাম? — জ্যোতিরিন্দ্রনাথ

৬৯। তাঁর বোনের নাম? — স্বর্ণকুমারী

৭০। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কী নামে পরিচিত? — আশ্রমিক

৭১। “জনগণমন” প্রথম গাওয়া হয় কোথায়? — কলকাতা

৭২। “আমারসোনারবাংলা” কোন উপলক্ষে লেখা? — বঙ্গভঙ্গ

৭৩। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত প্রবন্ধ? — আত্মশক্তি

৭৪। “গোরা” উপন্যাসের মূল বিষয় কী? — জাতীয়তাবাদ

৭৫। “ঘরেবাইরে” উপন্যাসের পটভূমি কী? — স্বদেশি

৭৬। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন? — গল্পগুচ্ছ

৭৭। “দুইবিঘাজমি” কী? — কবিতা

৭৮। “বীরপুরুষ” কী? — কবিতা

৭৯। “সহজপাঠ” কার জন্য লেখা? — শিশু

৮০। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শ কী? — প্রকৃতিনির্ভর

৮১। রবীন্দ্রনাথের প্রিয় নদী? — পদ্মা

৮২। তিনি কোন উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন? — স্যার

৮৩। “চিত্রাঙ্গদা” কী? — নৃত্যনাট্য

৮৪। “মালঞ্চ” কী? — উপন্যাস

৮৫। “চারঅধ্যায়” কী? — উপন্যাস

৮৬। “ক্ষণিকা” কী? — কাব্যগ্রন্থ

৮৭। “মানসী” কী? — কাব্যগ্রন্থ

৮৮। রবীন্দ্রনাথ কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন? — সাধনা

৮৯। রবীন্দ্রনাথের পুত্রের নাম? — রথীন্দ্রনাথ

৯০। তাঁর কন্যার নাম? — মীরা

৯১। “বিশ্বপরিচয়” কী? — বিজ্ঞানগ্রন্থ

৯২। রবীন্দ্রনাথ কোন দেশে বহুবার গিয়েছেন? — ইংল্যান্ড

৯৩। তাঁর প্রিয় শিক্ষাক্ষেত্র কী ছিল? — মানবিকতা

৯৪। “জীবনদেবতা” কার ভাবনা? — রবীন্দ্রনাথ

৯৫। রবীন্দ্রনাথ কোন সালে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন? — ১৯২১

৯৬। “সোনারতরী” কী? — কাব্যগ্রন্থ

৯৭। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত প্রেমের কবিতা? — উর্বশী

৯৮। তাঁর শেষ রচনা কী? — সভ্যতারসংকট

৯৯। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকে কী বলা হয়? — রবীন্দ্রসাহিত্য

১০০। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন কে? — রবীন্দ্রনাথ

শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

📘 চতুর্থ শ্রেণি | পাতাবাহার | দক্ষিণ মেরু অভিযান – গুরুত্বপূর্ণ টিকা (১০ নম্বর)

 

# চতুর্থ শ্রেণি | বাংলা | পাতাবাহার  

## 📘 দক্ষিণ মেরু অভিযান – গুরুত্বপূর্ণ টিকা (১০ নম্বর)


লিখেছেন: Edusmith  


তারিখ: (০১/০৫/২০২৬)


---


দক্ষিণ মেরু অভিযান পাঠটি আমাদের সাহস, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ। এই পাঠে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর টিকা নিচে সহজ ও পরীক্ষার উপযোগী ভাষায় দেওয়া হলো।


---


### ✅ ১) শ্লেজ গাড়ি  

শ্লেজ গাড়ি হল বরফের ওপর চলার জন্য তৈরি একটি বিশেষ ধরনের যানবাহন। এতে কোনো চাকা থাকে না, বরং নিচে সমতল পাটাতন থাকে, যা বরফের ওপর সহজে পিছলে চলে। সাধারণত কুকুর বা মানুষ এই গাড়ি টেনে নিয়ে যায়। দক্ষিণ মেরুর মতো বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলে এই গাড়ি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।


---


### ✅ ২) স্কট  

রবার্ট ফ্যালকন স্কট ছিলেন একজন বিখ্যাত ইংরেজ অভিযাত্রী। তিনি দক্ষিণ মেরু জয় করার উদ্দেশ্যে একটি অভিযান পরিচালনা করেন, যা “টেরানোভা অভিযান” নামে পরিচিত। তিনি সাহসী হলেও ফিরে আসার পথে কঠিন আবহাওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেন।


---


### ✅ ৩) টেরানোভা  

টেরানোভা ছিল একটি জাহাজ, যার মাধ্যমে স্কট ও তাঁর সঙ্গীরা দক্ষিণ মেরু অভিযানে যাত্রা করেন। এই জাহাজটি বরফপূর্ণ সমুদ্রপথে চলার উপযোগী ছিল এবং এতে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সরঞ্জাম বহন করা হত।


---


### ✅ ৪) ডিসকাভারি  

ডিসকাভারি ছিল একটি বিখ্যাত জাহাজ, যা দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হত। স্কট তাঁর প্রথম অভিযানে এই জাহাজ ব্যবহার করেন এবং এর মাধ্যমে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


---


### ✅ ৫) রয়েল জিয়োগ্রাফিক্যাল সোসাইটি  

রয়েল জিয়োগ্রাফিক্যাল সোসাইটি ইংল্যান্ডের একটি বিখ্যাত সংস্থা, যা ভৌগোলিক গবেষণা ও নতুন অঞ্চল আবিষ্কারে সাহায্য করে। স্কটের অভিযানে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।


---


### ✅ ৬) কিং এডওয়ার্ড দ্বীপ  

কিং এডওয়ার্ড দ্বীপ দক্ষিণ মেরুর নিকটবর্তী একটি বরফাচ্ছন্ন অঞ্চল। এটি ইংল্যান্ডের রাজা এডওয়ার্ডের নামে নামকরণ করা হয়েছে। অভিযাত্রীদের জন্য এই স্থানটি গবেষণার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


---


## 📌 উপসংহার  

দক্ষিণ মেরু অভিযান আমাদের শেখায় যে কঠিন পরিস্থিতিতেও সাহস ও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয়। এই পাঠের টিকাগুলি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


---


📢 আরও নোট ও প্রশ্নোত্তরের জন্য আমাদের ব্লগটি ফলো করুন 👉 https://edusmiths.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫

সপ্তম শ্রেণি | ইতিহাস | চতুর্থ অধ্যায়: সুলতানী শাসন



📚 সপ্তম শ্রেণি | ইতিহাস | চতুর্থ অধ্যায়: সুলতানী শাসন

🔟 দশটি পূর্ণাঙ্গ ৫ নম্বরের প্রশ্নোত্তর


❓ ৬. কুতুবউদ্দিন আইবক কে ছিলেন? তাঁর প্রধান কাজগুলো উল্লেখ করো।

উত্তর:
কুতুবউদ্দিন আইবক ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং মোহাম্মদ ঘোরীর দাস ও সেনাপতি। ঘোরীর মৃত্যুর পর ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লির সুলতান হিসাবে সিংহাসনে বসেন।
তাঁকে দিল্লির সুলতানী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয়।

🔹 তিনি দিল্লি ও আজমীরকে রাজধানী করেন।
🔹 তাঁর শাসনকালে লাহোর ও দিল্লি শহর গড়ে ওঠে।
🔹 তিনি “লক্ষণবতী অভিযান” পরিচালনা করে বাংলার কিছু অংশ অধিকার করেন।
🔹 কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ তাঁর আমলে শুরু হয়।
🔹 তিনি দানশীলতার জন্য “লক্ষণবতীর খিরাত” বা “দীন-ইলাহী” উপাধি পান।

📌 উপসংহার: কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লির প্রথম স্বাধীন তুর্কি সুলতান হিসেবে রাজনৈতিক স্থিতি ও প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।


❓ ৭. ‘চাহালগানি’ কীভাবে দিল্লি সুলতানদের জন্য সমস্যা তৈরি করেছিল?

উত্তর:
চাহালগানি ছিল ৪০ জন তুর্কি অভিজাত আমিরের একটি পরামর্শদাতা গোষ্ঠী। যদিও ইলতুৎমিস এই দলটি গঠন করেছিলেন শাসন কাজে সাহায্যের জন্য, পরে তারা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

🔹 তারা ক্ষমতার লোভে একাধিক সুলতানকে পদচ্যুত করে।
🔹 রজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করায় তাদের ভূমিকা ছিল।
🔹 নিজেদের ইচ্ছামতো সুলতান নির্বাচনে চাহালগানি একক প্রভাব খাটায়।
🔹 তারা দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল করে তোলে।

📌 উপসংহার: পরবর্তীতে বলবন চাহালগানিকে ধ্বংস করে দিল্লির সুলতানী শাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে শাসন শক্তিশালী করেন।


❓ ৮. বলবনের শাসনের বিশেষতাগুলো আলোচনা করো।

উত্তর:
বলবন ছিলেন দিল্লির সুলতানদের মধ্যে অন্যতম কঠোর শাসক। তাঁর শাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

🔹 তিনি “রাজতন্ত্রই ঈশ্বরপ্রদত্ত” এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।
🔹 দরবারে কঠোর নিয়ম এবং “সিজদাহ” ও “জমলাহ” চালু করেন।
🔹 চাহালগানি ধ্বংস করে সুলতানের একক কর্তৃত্ব স্থাপন করেন।
🔹 বিচারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এবং কড়া শাস্তি চালু করেন।
🔹 সীমান্তে মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

📌 উপসংহার: বলবনের কঠোর নীতিগুলো দিল্লি সুলতানী শাসনকে সংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তী প্রশ্নোত্তরের জন্য লিংক


❓ ৯. মুহাম্মদ বিন তুঘলক কোন কারণে “অদ্ভুত সুলতান” নামে পরিচিত?

উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন তুঘলক রাজবংশের দ্বিতীয় সুলতান। তাঁর কিছু অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত ও নীতির কারণে তিনি “অদ্ভুত সুলতান” নামে পরিচিত।

🔹 তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে স্থানান্তর করেন – যা জনগণের উপর কষ্ট চাপায়।
🔹 তামার মুদ্রা চালু করেন, কিন্তু তা জাল তৈরি হওয়ায় অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
🔹 কৃষিকর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
🔹 তিনি অনেক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবায়ন সফল হয়নি।

📌 উপসংহার: তাঁর চিন্তাভাবনা অগ্রগামী হলেও বাস্তবায়নে ভুল হওয়ায় তিনি “অদ্ভুত” বা ব্যর্থ সংস্কারক নামে পরিচিত।


❓ ১০. সুলতানদের বিচারব্যবস্থা কেমন ছিল? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:
দিল্লি সুলতানরা আইনের শাসনের পক্ষে ছিলেন। তারা বিচারব্যবস্থায় কঠোরতা বজায় রেখেছিলেন এবং সাধারণ মানুষ ও আমিরদের মধ্যে কোনো পক্ষপাত দেখাতেন না।

🔹 সুলতান নিজে চূড়ান্ত বিচারক ছিলেন।
🔹 বিভিন্ন বিভাগে ক্বাজী বা বিচারক নিয়োগ করা হতো।
🔹 শরিয়া (ইসলামি আইন) অনুসারে বিচার হতো, তবে প্রয়োজনে স্থানীয় আইনও মানা হতো।
🔹 অপরাধ অনুযায়ী দণ্ড নির্ধারণ ছিল অত্যন্ত কঠোর।

📌 উপসংহার: দিল্লির সুলতানদের বিচারব্যবস্থা ছিল কাঠামোগত ও নিরপেক্ষ, যা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল।


❓ ১১. ‘ইকতা’ ব্যবস্থা কী ছিল? এর সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।

উত্তর:
‘ইকতা’ ছিল সুলতানী আমলে রাজস্ব সংগ্রহ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি।

🔹 ইকতা নামে পরিচিত জমি দেওয়া হতো সরকারি কর্মচারীদের।
🔹 এরা রাজস্ব আদায় করত এবং নিজের ভরণপোষণ চালাত।
🔹 জমির মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকত, ইকতাদার কেবল উপভোগ করত।

সুবিধা:
– রাজস্ব সংগ্রহে সুবিধা হতো
– সৈন্য বজায় রাখতে সাহায্য করত
– প্রশাসনে দক্ষতা আসত

অসুবিধা:
– অনেক সময় ইকতাদাররা বিদ্রোহ করত
– কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে পড়ত

📌 উপসংহার: ইকতা ব্যবস্থা সুলতানী আমলে প্রশাসন সহজ করতে সাহায্য করলেও তা মাঝে মাঝে বিপজ্জনক হয়ে উঠত।


❓ ১২. দিল্লি সুলতানদের সময় নারীদের অবস্থান কেমন ছিল?

উত্তর:
সুলতানী আমলে নারীদের অবস্থান খুব বেশি শক্তিশালী ছিল না। বেশিরভাগ নারী গৃহবন্দী থাকতেন এবং সমাজে পুরুষদের তুলনায় অধিকার কম ছিল।

🔹 মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ সীমিত ছিল।
🔹 তারা সাধারণত পর্দার আড়ালে থাকতেন এবং রাজনীতিতে অংশ নিতে পারতেন না।
🔹 তবে রজিয়া সুলতানা এর ব্যতিক্রম ছিলেন।
🔹 রাজপরিবারের কিছু নারী দাসী, রাজসভার গায়িকা বা রান্নার কাজ করতেন।

📌 উপসংহার: যদিও ব্যতিক্রম কিছু নারী রাজনীতিতে অংশ নিয়েছিলেন, তবে অধিকাংশ সাধারণ নারীর অবস্থা দুর্বলই ছিল।


❓ ১৩. সুলতানী আমলে রাজস্ব ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর:
দিল্লি সুলতানরা রাজস্ব ব্যবস্থাকে একটি সংগঠিত কাঠামোর মধ্যে এনেছিলেন।

🔹 কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিজমির উপর কর আদায় হতো।
🔹 জমির পরিমাণ ও উর্বরতা অনুযায়ী কর নির্ধারিত হতো।
🔹 ইকতাদারদের মাধ্যমে কর আদায় করা হতো।
🔹 অনেকে ফসলের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব হিসাবে দিত।

📌 উপসংহার: এই করব্যবস্থা রাজকোষে আয় বাড়াতে সাহায্য করলেও অনেক সময় কৃষকদের উপর বোঝা হয়ে দাঁড়াত।


❓ ১৪. দিল্লি সুলতানরা মুদ্রা ব্যবস্থা কিভাবে গড়ে তুলেছিলেন?

উত্তর:
সুলতানী শাসনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নির্দিষ্ট মুদ্রা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

🔹 ইলতুৎমিস রুপোর মুদ্রা “টঙ্কা” এবং তামার মুদ্রা “জিত্তাল” চালু করেন।
🔹 প্রতিটি মুদ্রায় সুলতানের নাম ও খলিফার নাম থাকত।
🔹 মুহাম্মদ বিন তুঘলক তামার মুদ্রা চালু করলেও তা ব্যর্থ হয়।
🔹 এই মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর আদায় ও বাণিজ্য সহজ হয়।

📌 উপসংহার: মুদ্রা ব্যবস্থা সুলতানী শাসনে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।


❓ ১৫. দিল্লি সুলতানদের সময় বাংলার অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর:
দিল্লি সুলতানদের শাসনকালে বাংলাকে অধিকাংশ সময় দিল্লির অধীন প্রদেশ হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু বাংলায় প্রায়শই বিদ্রোহ ও স্বাধীন শাসকের উত্থান দেখা যেত।

🔹 ইলতুৎমিস ও বলবনের সময় বাংলায় বিদ্রোহ দমন করা হয়।
🔹 বাংলায় বাংলার গভর্নররা অনেক সময় স্বাধীনভাবে শাসন করতেন।
🔹 তুঘলক আমলে বাংলার শাসকরা কেন্দ্রের অধীন মানতেন না।
🔹 পরে বাংলায় স্বতন্ত্র সুলতানী রাজবংশ গড়ে ওঠে।

📌 উপসংহার: দিল্লি সুলতানদের নিয়ন্ত্রণ বাংলায় ছিল দুর্বল। এখানে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারার বিকাশ ঘটে।

প্রশ্ন ১:


১৬। আলাউদ্দিন খিলজির সামরিক অভিযানের বিবরণ দাও।


✅ উত্তর:

আলাউদ্দিন খিলজি ছিলেন খিলজি বংশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সফল সুলতান। তাঁর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তিনি ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করেন এবং একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।


🔹 উত্তরে অভিযান:

– মঙ্গোলদের একাধিকবার আক্রমণ প্রতিহত করেন।

– সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা গড়ে তোলেন।

– পাঞ্জাব ও সিন্ধু অঞ্চলে তাঁর শাসন সুদৃঢ় হয়।


🔹 পশ্চিম ও মধ্য ভারতে:

– গুজরাট জয় করেন এবং বহু সম্পদ দিল্লিতে নিয়ে আসেন।

– রানায়না ও রাজপুতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান।

– চিতোর দখল করেন, যেখানে রাজপুত রানী পদ্মিনীর গল্প খুবই জনপ্রিয়।


🔹 দক্ষিণ ভারতের দিকে:

– দক্ষিণ ভারতে প্রথম বড় অভিযান চালান।

– মালিক কাফুরের নেতৃত্বে দাক্ষিণাত্যের যাদব, হোয়সাল ও পাণ্ড্য রাজ্য আক্রমণ করে প্রচুর খাজনা ও ধনসম্পদ আদায় করেন।


📌 উপসংহার:

আলাউদ্দিন খিলজির সামরিক দক্ষতা ও যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল তাঁকে ভারতের অন্যতম সফল শাসকে পরিণত করে। তাঁর শাসন আমলে দিল্লি সুলতানী শাসনের ভৌগোলিক পরিধি সবচেয়ে বিস্তৃত হয়।



--- পরবর্তী প্রশ্নোত্তরের জন্য লিংক 

 https://edusmiths.blogspot.com/2025/08/blog-post_5.html


❓ প্রশ্ন ১৭:


আলাউদ্দিন খিলজির অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো কী ছিল? বিশ্লেষণ করো।


✅ উত্তর:

আলাউদ্দিন খিলজি প্রশাসনকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার করেছিলেন। তাঁর এই সংস্কারগুলো সাধারণ জনগণ ও সৈন্যদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল।


🔹 মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি:

– বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নির্ধারণ করে দেন।

– নির্দিষ্ট দামে চাল, গম, কাপড়, লবণ ইত্যাদি বিক্রি হতো।

– যারা অতিরিক্ত দাম নিত, তাদের শাস্তি দেওয়া হতো।


🔹 বাজার ব্যবস্থা:

– তিনটি আলাদা বাজার চালু করেন – খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, ও ঘোড়া-দাস-বস্ত্রের জন্য।

– প্রতিটি বাজারে সরকারের নিয়োজিত কর্মকর্তা নজরদারি করত।

– বাজার নিয়ন্ত্রণে "দিআন-ই-রিয়াসত" নামক দপ্তর গঠন করেন।


🔹 রাজস্ব সংস্কার:

– কৃষকদের থেকে জমির প্রকৃতি অনুযায়ী কর আদায় করা হতো।

– মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে কৃষকদের সরাসরি সরকারের আওতায় আনা হয়।


📌 উপসংহার:

আলাউদ্দিন খিলজির অর্থনৈতিক সংস্কার ছিল অত্যন্ত কড়া ও কার্যকর। এর ফলে সেনাবাহিনী পরিচালনা সহজ হয় এবং জনজীবনে ন্যায্যতা ফিরে আসে।

আগের প্রশ্নোত্তরের লিংক :

https://edusmiths.blogspot.com/2025/08/blog-post.html

সপ্তম শ্রেণি,ইতিহাস, চতুর্থ শ্রেণির সুলতানী শাসন এর পাঁচ নম্বরের প্রশ্নোত্তর পাঁচটা

সপ্তম শ্রেণি | ইতিহাস | চতুর্থ অধ্যায়: সুলতানী শাসন

📚 পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ৫ নম্বরের প্রশ্নোত্তর


---

❓ ১. ইলতুৎমিসের প্রথম তিনটি সমস্যা কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।


উত্তর :-ইলতুৎমিস ছিলেন দিল্লির প্রথম প্রকৃত সুলতান যিনি সুলতানী শাসনের ভিত শক্ত করে তুলেছিলেন। তবে সিংহাসনে বসার পর তাঁকে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রধান তিনটি সমস্যার বর্ণনা নিচে দেওয়া হল—


---

১) রাজতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে সমস্যা:

ইলতুৎমিস কুতুবউদ্দিন আইবকের জামাতা এবং নিজে ছিলেন একজন দাস। তাই সুলতান হিসাবে তাঁর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। তুর্কি আমির ও অভিজাতেরা তাঁকে সুলতান হিসাবে মানতে চায়নি। এই কারণে তাঁর শাসন শুরুতেই নানান রাজনৈতিক চক্রান্ত ও বিদ্রোহের শিকার হয়। বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি পরবর্তীতে আব্বাসি খলিফার স্বীকৃতি আদায় করেন।


---

২) প্রাদেশিক শাসকদের বিদ্রোহ:

তৎকালীন ভারতে বিভিন্ন প্রদেশে আলাদা আলাদা গভর্নর বা শাসক ছিলেন, যারা কুতুবউদ্দিন আইবকের মৃত্যুর পর নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে ফেলেছিল। ইলতুৎমিস যখন সুলতান হন, তখন অনেক প্রাদেশিক শাসক দিল্লির কর্তৃত্ব মানতে রাজি ছিলেন না। ফলে তাঁকে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়ে পুনরায় এসব এলাকা দিল্লির অধীনে আনতে হয়—যেমন, বাঙ্গাল, বিহার, রাজস্থান, পাঞ্জাব প্রভৃতি অঞ্চল।


---

৩) বাহ্যিক আক্রমণের আশঙ্কা:

তখনকার সময় ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল ছিল অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার খোয়ারিজ রাজবংশের শাসকরা ভারতের দিকে আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে থাকে। এদের আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং সীমান্ত রক্ষা করতে ইলতুৎমিসকে কৌশলী ও শক্ত হাতে সেনা অভিযান পরিচালনা করতে হয়।


---

📌 উপসংহার:

এই তিনটি বড় সমস্যার সফলভাবে মোকাবিলা করে ইলতুৎমিস শুধু নিজের অবস্থানই দৃঢ় করেননি, বরং একটি সুসংগঠিত সুলতানী প্রশাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। এই কারণে তাঁকেই প্রকৃতপক্ষে দিল্লির প্রথম কার্যকর সুলতান বলা হয়।


---

❓ ২. ইলতুৎমিস দিল্লির সুলতানী শাসনের ভিত কিভাবে মজবুত করেছিলেন? বিশ্লেষণ করো।

✅ উত্তর:

ইলতুৎমিস ছিলেন সুলতানী শাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর। তিনি দিল্লির সুলতান হিসাবে কেবল ক্ষমতা গ্রহণই করেননি, বরং শাসন কাঠামোকে সুসংগঠিত করে তুলেছিলেন। তাঁর প্রধান কার্যকলাপগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:


---

১) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা স্থাপন:

তিনি বিভিন্ন বিদ্রোহী ও পৃথক হয়ে যাওয়া প্রদেশগুলিকে পুনরায় দিল্লির নিয়ন্ত্রণে আনেন। যেমন—বিহার, বাংলার কিছু অঞ্চল, রাজস্থান প্রভৃতি। এতে কেন্দ্রীয় শাসনের ভিত মজবুত হয়।


---

২) চাহালগানি গঠন:

ইলতুৎমিস ৪০ জন বাছাই করা তুর্কি আমিরদের নিয়ে 'চাহালগানি' নামে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। এটি প্রশাসন পরিচালনায় তাঁকে সাহায্য করত।


---

৩) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন:

তিনি আব্বাসি খলিফার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায় করেন। এর ফলে মুসলিম বিশ্বের কাছে দিল্লির সুলতানী শাসনের একটি বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়।


---

৪) অর্থনীতি ও মুদ্রা সংস্কার:

তিনি ‘টঙ্কা’ (রুপোর মুদ্রা) এবং ‘জিত্তাল’ (তামার মুদ্রা) চালু করেন, যা দিল্লি সুলতানীর আর্থিক ব্যবস্থা সুসংগঠিত করে তোলে।


---

📌 উপসংহার:

এইসব পদক্ষেপ ইলতুৎমিসকে শুধু সফল সুলতান নয়, বরং সুলতানী শাসনের প্রথম প্রকৃত স্থপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।


---

❓ ৩. রজিয়া সুলতানা কে ছিলেন? তিনি ব্যতিক্রমী শাসক কেন ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:

রজিয়া সুলতানা ছিলেন ভারতের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র মুসলিম নারী সুলতান। তিনি ছিলেন ইলতুৎমিসের কন্যা এবং অত্যন্ত বিদুষী, সাহসী ও দক্ষ শাসক।


---

১) নারী হয়েও সুলতান হওয়া:

তৎকালীন সময় ছিল পুরুষশাসিত সমাজ। সেখানে একজন নারী হয়ে তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন। এটি ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক এবং সাহসী পদক্ষেপ।


---

২) প্রশাসনিক দক্ষতা:

তিনি সরাসরি প্রশাসন পরিচালনা করতেন, রাজদরবারে পুরুষদের মতো পোশাক পরতেন এবং নিজ হাতে রাজ্যের কাজ তদারকি করতেন।


---

৩) বিদ্রোহ ও সংগ্রাম:

চাহালগানির কিছু তুর্কি অভিজাত তার নারী পরিচয়ের কারণে শাসন মানতে চাননি। রজিয়া তাদের বিদ্রোহ দমন করার চেষ্টা করেন।
তবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে তাকে সিংহাসনচ্যুত করা হয় এবং নিহতও হন।


---

📌 উপসংহার:

নারী হয়েও এক পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তিনি সুলতান হিসাবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এজন্য রজিয়া সুলতানা ছিলেন একজন অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও সাহসী শাসক।


---

❓ ৪. বলবনের ‘নিয়ম ও শৃঙ্খলা’ নীতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর:

বলবন ছিলেন সুলতানী শাসনের এক কঠোর কিন্তু দক্ষ শাসক। তিনি রাজতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য ‘নিয়ম ও শৃঙ্খলা’ নীতি অনুসরণ করেন, যা তার শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।


---

১) চাহালগানির শক্তি হ্রাস:

তিনি অভিজাতদের সমিতি চাহালগানিকে ধ্বংস করে রাজতন্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। এইভাবে প্রশাসন দুর্বলদের হাতে পড়া থেকে রক্ষা পায়।


---

২) দরবারে শৃঙ্খলা ও নিয়ম:

বলবন দরবারে কঠোর প্রটোকল চালু করেন। সুলতানের সামনে কারো কথা বলার নিয়ম ছিল না। "জমলাহ" এবং "সিজদাহ" প্রথা চালু করে সুলতানের মর্যাদা বাড়ান।


---

৩) আইনের শাসন:

রাজ্যে অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চালু করেন। বিচারব্যবস্থায় কঠোরতা এনে জনগণের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন।


---

📌 উপসংহার:

বলবনের ‘নিয়ম ও শৃঙ্খলা’ নীতি দিল্লির সুলতানী শাসনের স্থিতিশীলতা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করে তোলে।


---

❓ ৫. চাহালগানি কী? চাহালগানির প্রভাব আলোচনা করো।

✅ উত্তর:

চাহালগানি ছিল ইলতুৎমিস গঠিত ৪০ জন অভিজাত তুর্কি আমিরদের নিয়ে গঠিত একটি উপদেষ্টা পরিষদ। এটি মূলত সুলতানের প্রশাসনিক ও সামরিক কাজে সহায়তা করার জন্য তৈরি হয়েছিল।


---

১) প্রাথমিক ইতিবাচক ভূমিকা:

শুরুর দিকে চাহালগানি প্রশাসনের স্থিতি ও নীতি-নির্ধারণে সহায়ক হয়। তারা সুলতানের পাশে থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করত।


---

২) স্বেচ্ছাচারিতা ও ষড়যন্ত্র:

ইলতুৎমিসের মৃত্যুর পর চাহালগানির সদস্যরা ক্ষমতার লোভে নিজেরা রাজ্য পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করতে থাকে। তারা একাধিক সুলতানকে হত্যা বা পদচ্যুত করে।


---

৩) রজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধাচরণ:

চাহালগানি রজিয়া সুলতানাকে নারী বলে সিংহাসনে মানতে রাজি হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।


---

📌 উপসংহার:

চাহালগানি একদিকে শাসনব্যবস্থায় সাহায্য করলেও পরে তারা রাজনৈতিক স্বার্থে সুলতানী শাসনের ভিত দুর্বল করে তোলে। তাই বলবন তাদের দমন করে দিল্লি শাসনের স্থিতি ফেরান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে এককথায় ১০০ টি প্রশ্নোত্তর

 বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছাত্রছাত্রী, কুইজ প্রতিযোগিতা ও ব্লগ পোস্টের জন্য নিচে দেওয়া ...